কো-বট ও চ্যাটবটে বিশ্বনেতৃত্বের স্বপ্ন বুনছে খুদে রোবটিয়ানরা
রোবট। বাস্তবে আসার অনেক আগেই ধরা দেয় মানুষের কল্পনার জগতে। পঞ্চাশের দশকের বিজ্ঞান-কল্পকাহিনীতে। তখন আমরা রোবটকে বন্ধু হিসেবে চেয়েছি। যার প্রতিফলন দেখা গিয়েছিলো সত্তর দশকে মুক্তি পাওয়া স্টার ওয়ার্স মুভিতে। সেখানে আর-টু ডি-টু এবং সিথ্রিপিও বন্ধু রোবট জয় করেছিলো কোটি হৃদয়। কিন্তু ৮০’র দশকে টার্মিনেটর সিনেমা দেখে রোবট নিয়ে শঙ্কা জাগে মনে। এরপর মেট্রিক্স সিনেমায় রোবটের কুটিল প্রকৌশল মানবজাতির অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। এমন স্বপ্ন-শঙ্কা আর আশঙ্কা হাতে নিয়েই খুদে রোবটিয়ানদের নিয়ে ৫ম বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে রোবট অলিম্পিয়াড।
২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আইসিটি শিল্পের বিকাশে দেশের স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের রোবটিক্সে আগ্রহী করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স এন্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের যৌথ ভাবে আয়োজন করেছে দুই দিনে এই প্রতিযোগিতা। দুর্যোগ পূর্ণ আবহাওয়ার রেশ কাটার আগেই মঙ্গলবার সকালে শিশু-কিশোরদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে হাজির হন অভিভাবকেরা।
অভিভাবকদের এমন উৎসাহে স্মৃতি হাতরে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে বুক বাঁধেন শিক্ষকেরাও। আজকের প্রতিযোগীরাই আগামীতে রোবট প্রকৌশলী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অধ্যাপক হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু, ডিন, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কো-বট ও চ্যাটবট তৈরিতে উপস্থিত খুদে রোবটিয়ানদের উদ্বুদ্ধ করার মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। মুভিতে দেখা দুর্ধতা নয় ঝুঁকিপূর্ণ ও নোংরা কাজের পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী কাজে বাংলাদেশের শিশুদের রোবট তৈরিতে মনোযোগী হবার পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের আগেই চতুর্থ শিল্পযুগে যে নতুন পরিস্থিতি আসছে সেখানে বাংলাদেশ কো-বোট এ মনোনিবেশ করেছে বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স অনুষদের চেয়ারপারসন সেঁজুতি রহমান।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: মেস্তাফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াড সভাপতি লাফিফা জামাল এবং বাংলাদেশ ওপের সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।
উদ্বোধনের পরই ২৫-২৬ অক্টোবর দুই দিন ধরে দুইদিনে রোবট গ্যাদারিংয়ের এর প্রতিযোগিতা শুরু হয় ৫ টি ক্যাটাগরিতে - ক্রিয়েটিভ ক্যাটাগরি, ফিজিক্যাল কম্পিউটিং, রোবটিকস কুইজ, রোবট ইন মুভি ও রোবট গ্যাদারিং।
জাতীয় পর্বে বিজয়ীদের মধ্য থেকে পরবর্তীতে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং ওয়ার্কশপের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরাই ২৪তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডে থাইল্যান্ডের ফুকেট- এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।